প্রিন্ট এর তারিখঃ May 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 30, 2025 ইং
জীবন যুদ্ধে হার না মানা কৃষক সিরাজ শেখের সফলতার গল্প

মোঃসিরাজ শেখ একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। বাড়ি রাজবাড়ি সদর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে। অল্প বয়সেই তিনি পিতাকে হারান । পরিবারের বড় সন্তান, তাই পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁদে এসে পড়ে । ১৪ বছর বয়সে তিনি জীবন যুদ্ধের ময়দানে নামে। তার বাবা ছিলেন একজন বর্গাচাষী। কৃষিজমি না থাকায় তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে কৃষি জমি লিজ/বর্গা নেয়ার জন্য ঘুরেন, ছোট ছেলে চাষবাদ ঠিকমতো করতে পারবে কিনা? তাই তাকে কেউ জমি লিজ/বর্গা দেয়নি।
পরিবার নিয়ে সিরাজ খুব বিপদে পড়ে যান। সে বিপদের সময় তার বাবার বন্ধু তার পাশে দাঁড়ায় এবং তাকে ২২ শতাংশ জমি দেয় চাষাবাদ কার জন্য। মোঃ সিরাজ শেখ ২২ শতাংশ জমি দিয়েই তার জীবনে কৃষিকাজ শুরু করেন। প্রথম বছরেই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বেশ ফসল ঘরে তোলেন। পরের বছর তার চাষে আরো ২২শতাংশ জমি যোগ হয়।দীর্ঘ দিন যাবত গতানুগতিক নিয়মে চাষাবাদ করে যখন সফলতা আসছিল না তখন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি NATP-2 প্রকল্পের কথা জানতে পারেন তিনি NATP-2 প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চ মূলের বিভিন্ন ফসল এর উপরে ট্রেনিং গ্রহণ করেন। এর পর থেকে তিনি শুরু করেন ভিন্ন রকম সব চাষাবাদ । বর্তমানে তিনি অত্র অঞ্চলের একজন সফল চাষী তার বাড়ী হয়েছে হয়েছে এবং বেশ কিছু চাষযোগ্য জমি হয়েছে। তাকে দেখে অন্যরা অনুপ্যানিত হচ্ছেন।
সিরাজ শেখ এক সময় নিজে স্বপ্ন দেখতেন আর এখন তিনি অন্যদের স্বপ্ন দেখান । এখন অনেকেই আসেন এই সফল চাষীর সফলতার গল্প শোনার জন্য। তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর আগের কথা গতানুগতিক চাষ ছেড়ে তখন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বিভিন্ন রকম সবজির চাষাবাদ শুরু করি এই চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছি। এর পরে ২০১৩ সালে এনএটিপি প্রকল্পের সাথে যুক্ত হই এর পর অল্প অল্প করে চাষের জমি বৃদ্ধি করতে থাকি। এক সময় আত্মবিশ্বাস জন্মালো সঠিক ট্রেনিং ও নিষ্ঠার সাথে পরিশ্রম করলে যে কোনো চাষে ভালো মুনাফা পাওয়া সম্ভব এর পর এক রাশ হাসি দিয়ে বললেন এর পর আর আমাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।
তিনি জানান, ২০১৬ সালের কথা। ৩৩ শতক জমিতে উচ্চমূল্যের সবজি বাধাকপি চাষ করে ভালো মুনাফা আসে, ৮০ হাজার টাকা ।এখন বর্তমানে ৫০ শতক জমিতে চাষ করি। ২০১৮ সালে প্রথমে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন সম্পর্কে জানতে পারি এবং পরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে উপরে NATP-2 কর্তৃক নিরাপদ সবজি উৎপাদন ট্রেনিং গ্রহণ করি এবং কৃষি অফিস থেকে NATP-2 সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন (লাউ) ১ বিঘা জমির একটি প্রদর্শনী আমাকে দেওয়া হয়। প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নতুন এক অভিজ্ঞতা অর্জন করি অল্প খরচে অধিক মুনাফা আয় করি । আগে সবজি উৎপাদন খরচ অনেক বেশি লাগতো এবং ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে তেমন ভালো ফলন পাওয়া যেত না। এখন সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করাতে আমার কোন কীটনাশক এর প্রয়োজন হয় না।আগের থেকে এখন ফলনও অনেক বেশি পায়। কীটনাশক খরচ এখন হয়না তাই লাভ বেশি পায়।আমি আমার সবজি খেতে এখন নিয়মিত সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করি যেমন- লাউ, পটল, ধুন্দুল, মিষ্টি কুমড়ায় আমার সবজি নিরাপদ হাওয়ায় পাইকার বাজারে আমার সবজির সুনাম রয়েছে।
সিরাজ শেখ জানান, আমি এখন প্রতি মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করি ১৫০ শতাংশ জমিতে। যেখান থেকে প্রতি মৌসুমে আমি ১.৫-২ লক্ষ টাকা আয় করি এবং বছরে প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি করি। সবজির পাশাপাশি ২০০ শতাংশ জমিতে ধান,গম, পাট ও গেন্ডারি আখ চাষ করি সেখান থেকে বছরে ২.৫-৩ লক্ষ টাকা আয় করি।আমার এখন নিজের ১টি পাওয়ার ট্রিলার ও ১টি সীডার আছে। নতুন নতুন চাষাবাদ ও প্রযুক্তি গ্রহণ করতে আমার ভালো লাগে।
মোঃ সিরাজ শেখ কৃষি কাজ করেই আজ এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। তিনি প্রতিবছর কৃষি কাজ করেই ৮-৯ লক্ষ টাকা আয় করেন।
(তথ্য সূত্র : রাজবাড়ি সদর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়